সিকিউরিটিজ আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আট ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ডিসেম্বরে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা না দিলে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও কমিশনের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসইসির তথ্যানুসারে, ডিএসই গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আনোয়ার সিকিউরিটিজ লিমিটেডে একটি পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করে কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বেশকিছু সমস্যা ও অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। পরে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটিকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইভাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বেশকিছু সমস্যা ও অসংগতি পাওয়ায় সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বেশকিছু সমস্যা ও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক অধ্যাপক সুরাইয়া বেগমকে ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই ঘটনায় তুষার এলকে মিয়া ও আলমগীর কবিরকে যথাক্রমে ২ কোটি ৫০ লাখ ও ১২ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ডিএসই ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেডে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বেশকিছু সমস্যা ও অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। পরে কোম্পানিটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। একই অভিযোগে এএনডব্লিউ সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল মোনার্ক হোল্ডিং লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ও ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে কোম্পানিটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।
২০২০ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সামীর সিকান্দারকে ৯ কোটি, মাহির সিকান্দারকে ১০ লাখ, আবু সাদাত মো. সায়েমকে ৪ কোটি ৯০ লাখ, আব্দুল মুবিন মোল্লাকে ১০ লাখ ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সামীর সিকান্দারকে ২৩ কোটি ২৫ লাখ, মাহির সিকান্দারকে ৪২ লাখ, আফরা চৌধুরীকে ৩৫ লাখ, আনিকা ফারহীনকে ৭ কোটি ৫০ লাখ, আবু সাদাত মো. সায়েমকে ১৭ কোটি ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
এছাড়া ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর সময়ে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কারণে মাহফুজা আক্তারকে ১০ লাখ ও দেওয়ান সালেহীন মাহমুদকে ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।